প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:২১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি; বরং জ্বালানি তেলের দাম ও মার্কিন শেয়ারবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বুধবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান নতুন কোনো প্রস্তাব না দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হামলা চালাবে না। তবে একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কঠোরভাবে অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত এই ‘অবরোধসহ যুদ্ধবিরতি’র বিষয়টিই বাজার বিশ্লেষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও নৌ-অবরোধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দামকে উসকে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা লাফিয়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দিনশেষে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেয়ারবাজারেও এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন সূচকেই মঙ্গলবার পতনের চিত্র ফুটে ওঠে। দিনের এক পর্যায়ে ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ৪০০ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেন শেষে তা ২৯৩ পয়েন্ট বা ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক কম্পোজিট সূচকও ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক দিনগুলোর মতো বড় ধরনের ধস না নামলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি না কাটায় বড় বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালির সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্বস্তির মেঘ কাটছে না।
মন্তব্য করুন