প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:০৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলের বাধার মুখে তা ভেস্তে গেছে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে বর্তমানে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইট হাউস ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার গভীর ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসন প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যান্ড্রু ন্যাপোলিটানো পরিচালিত ‘জাজিং ফ্রিডম’ পডকাস্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। জনসনের দাবি অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পারমাণবিক কোড সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন রুখে দাঁড়ান এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পালনে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। জনসন এই ঘটনাটিকে একটি ‘নজিরবিহীন উত্তেজনাকর সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সামরিক প্রবিধান অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকলেও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সেই নির্দেশ ‘বৈধ’ কি না তা নিশ্চিত করা। জেনারেল কেইন সরাসরি ‘না’ বলে নিজের সামরিক অবস্থান ও নৈতিক দায়িত্বের দোহাই দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল শনিবার জেনারেল কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হোয়াইট হাউসে দেখা গিয়েছিল। পডকাস্টে ব্যবহৃত ভিডিও ফুটেজে জেনারেল কেইনকে অত্যন্ত দ্রুত এবং বিমর্ষ অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
অন্যদিকে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানসেনাদের উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রাম্পকে কৌশলগতভাবে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, ট্রাম্প সে সময় এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সহকারীদের ওপর চিৎকার করছিলেন। তার ‘অধৈর্য আচরণ’ যাতে বড় কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে, সেজন্যই সামরিক কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও জেনারেল কেইনের মধ্যে দীর্ঘদিনের নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কেইন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক জয়কে ‘সহজ’ মনে করেন, বাস্তবে কেইন যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে ট্রাম্পকে বারবার সতর্ক করে আসছিলেন। যদিও ট্রাম্প আসলেই পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত বোতাম টিপতে চেয়েছিলেন কি না তার কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি, তবে ল্যারি জনসনের এই দাবি এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী বক্তব্য মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের ‘অঘোষিত কলহে’র ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ঘটনায় ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সমালোচকরা প্রেসিডেন্টের মানসিক স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন।
মন্তব্য করুন