প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১১:০৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের জলসীমা, বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি বা উস্কানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরান তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে আরাগচি ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিকে আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং শান্তি আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির কথা বলে লোকদেখানো তৎপরতা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের বন্দর ও পণ্যবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ ও হুমকির রাজনীতি বজায় রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত স্থিতিশীলতা চায় না। মূলত হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় দাবি করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি থেকে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি আন্তর্জাতিক অবরোধ অমান্য করে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছিল। তবে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার আইনের পরিপন্থী বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে উস্কানিমূলক ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে ‘সর্বশক্তি প্রয়োগের’ হুমকি আসার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দাবি এবং ক্রমাগত চাপের মুখে তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও কঠোর করায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন