প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওই ভয়াবহ হামলার পর উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা বলেছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ মিনাবের এই ‘শাজাবা তাইয়্যেবা’ স্কুলটি একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরে অবস্থিত। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলটি এক সময় সামরিক ঘাঁটির অংশ থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে এটি আলাদাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে স্কুলটির ভেতরে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। হামলার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
এই হামলার ঘটনায় ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্ররা বলেছেন, এই হামলা শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
গত কয়েকদিন ধরে ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নেতৃত্ব সংকট দেখা য়েছে। আইআরজিসি দ্রুত উত্তরসূরি নিয়োগের চাপ দিচ্ছে।
এই হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করা হয়েছে বলে ইরানের অভিযোগ। আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, “বিপজ্জনক উত্তেজনা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে।” চীন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো সময় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন