প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় ভোরে বিষয়টি জানিয়েছে ইরান।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খামেনি গতকাল শনিবার ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় শহীদ হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এই বিবৃতি প্রচারিত হয়েছে। খবর বিবিসি ও ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী করেছে।
মৃত্যুর ১১ দিন আগে সর্বশেষ জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন খামেনি। জেনেভায় ওয়াশিংটন-তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলাকালীন তিনি বলেছিলেন,
“আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে, যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে এটা তার শত্রুদের পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।”
“প্রতিরোধক অস্ত্র আমাদের দেশের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই এখানে নাক গলাচ্ছে। তারা বলে ‘তোমার এমন ধরনের মিসাইল থাকতে হবে, তোমার রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর চেয়ে বেশি নয়’! এর মানে কী! তাতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এই ব্যাপারটা তো ইরানি জাতির।”
যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন,
“তাদের কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, এতটাই শক্তিশালী যে, এরপর আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারে না।”
শনিবার খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এতে তার প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানের লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এই কমপাউন্ডই খামেনির কার্যালয়।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যুতে এটাই প্রমাণ হয় যে তার লুকিয়ে থাকার খবরগুলো ছিল ‘শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের’ অংশ।
এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির মৃত্যুর দাবি করেছেন। বাংলাদেশ সময় রোববার মধ্যরাতে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন,
“ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত। ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার—যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরাইলের সঙ্গে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।”
ট্রাম্প আরও লিখেছেন,
“ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’”
“আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সাথে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।”
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। আইআরজিসি দ্রুত উত্তরসূরি নিয়োগের চাপ দিচ্ছে। অস্থায়ীভাবে তিন সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা চলছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো সময় আরও খারাপ হতে পারে।
মন্তব্য করুন