প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রথা ভেঙে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংসদে বিরোধী দলটির আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অংশ নেন।
ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।
ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
“আজকে আমাদের এ ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তাআলা দেবেন।”
তারেক রহমান বলেন,
“দেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে—বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এ গণতন্ত্রের যাত্রা—যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে—সেটির সুযোগ পেয়েছি। এ ত্যাগের মাধ্যমেই, এ আত্মত্যাগের মাধ্যমে, হাজারো মানুষের অত্যাচার, লাখো মানুষের নির্যাতনের মাধ্যমে আমরা আমাদের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ আমরা ফিরে পেয়েছি। সেজন্যই প্রথমেই আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি।”
ইফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মঈন খান, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই যোগদানকে রাজনৈতিক মহলে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আছে এবং এই ইফতারে তাদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে।
মন্তব্য করুন