প্রকাশিত: ৫০ মিনিট আগে, ০৩:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজারের রামুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ৫৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ আলী মুন্না শিকদার (২৭) নামের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এক সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও একটি মোটরবাইক, দুটি আইফোন এবং নগদ ৫০ হাজার ৯৯০ টাকা জব্দ করা হয়। তবে গ্রেফতার ব্যক্তি এপিবিএনের কর্মরত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও টানা চার দিন পুরো বিষয়টি গোপন রাখা এবং মামলার এজাহারে তাঁর প্রশাসনিক পরিচয় উল্লেখ না করা নিয়ে গভীর বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রামুর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট এলাকায় আরাকান সড়কে সন্দেহজনক একটি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে চালক মুন্না শিকদারকে আটক করে বিজিবি। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যে মোটরসাইকেলের বিশেষ বাক্সে প্যাকেটজাত অবস্থায় ৫৪ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৩০ বিজিবির নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করলেও এজাহারে আসামির পুলিশ সদস্য পরিচয়ের কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার বাদী এবং রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল হক উভয়েই দাবি করেন, আসামির এপিবিএন সদস্যপদের বিষয়টি তাঁদের কাছে নিশ্চিত ছিল না এবং জবানবন্দি অনুযায়ী তাঁকে সোপর্দ ও আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউসার সিদ্দিকী নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেফতার মুন্না প্রকৃতপক্ষে এপিবিএনেরই একজন সদস্য। তিনি জানান, মুন্না ২১ দিনের ছুটিতে থাকা অবস্থায় ১৬ এপিবিএন থেকে ঢাকায় বদলি হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
সাধারণত ১০ থেকে ১৫ হাজার ইয়াবা জব্দের ঘটনাতেও বিজিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠালেও, একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য বিজিবির গণমাধ্যম শাখা থেকে না পাঠানো এবং দীর্ঘ চার দিন পর বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন