তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবার, ২০২৬, ০৯:২১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আগাম শীতের সবজি বাজারে, কিন্তু দাম শুনে চোখ কপালে!

আগাম শীতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের মধ্যে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়। বেশির ভাগ সবজির দামও ৭০ থেকে ১০০ টাকা বা তার বেশি।

সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কয়েক ধরনের মাছের দাম। এর সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে প্যাকেটজাত চিনি ও সয়াবিন তেল। আগে থেকেই চড়া ডিম ও মুরগির বাজারে নতুন করে দাম না কমায় নিত্যপণ্যের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজারসহ একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি করলা, লতি, পটোল, কাঁকরোল ও শসা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম শীতের সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে।

তবে কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েক দিন আগে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

কাওরান বাজারে সবজি কিনতে আসা সাজিদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারে বিক্রেতাদের ঝুড়িতে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ আছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে শীতের সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। এছাড়া অন্যান্য সবজিতেও হাত দেওয়া যাচ্ছে না।

বেড়েছে মাছের দাম

খুচরা বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। পাবদা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, কই ৩৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে, যা আগে ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তেল-চিনি

সবজি ও মাছের পাশাপাশি ভোজ্যতেল ও চিনির দামও ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত মূল্য ২০৪ টাকা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। খোলা চিনিও বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

নয়াবাজারে চিনি কিনতে আসা জিল্লুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, চিনি কিনতে এসে দেখি চোখের সামনেই নৈরাজ্য করছে বিক্রেতা। প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া তিন দোকান ঘুরে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পেরেছি। বিক্রি হচ্ছে লিটারে ৬ টাকা বেশি দামে।

একই বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. সোহান বলেন, কোম্পানিগুলো চিনি ও তেল চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। বাজারে সংকটও রয়েছে। বেশি দামে আনতে হয় তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

ডিম-মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই

রাজধানীর খুচরা বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিম ও মুরগির দামও চড়া। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানভেদে ডিমের দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য করুন