প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, এ কারণে অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
চাঁদাবাজদের তালিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ধরনের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময়ই থাকে। একইভাবে সন্ত্রাসী, অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারীদের তালিকাও পুলিশের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। নতুন করে কোনো তালিকা করা হয়েছে এমন বিষয় নেই বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তখন দায়ভার থাকে এবং সেটিকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে পুলিশের কোনো ব্যর্থতা নেই, সরকারেরও কোনো ব্যর্থতা নেই। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটার ঘটনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ এজাহার নিয়ে গেলে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আগে পুলিশকে কিছু প্রাথমিক তদন্ত করতে হয়। এরপর কেস এন্ট্রি করা হয়।
নিউগিনি প্রোপার্টিজের ঘটনায়ও তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢালাওভাবে সরকারকে দোষারোপ করা কিংবা বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার কোনো বক্তব্য থাকলে তার বিচার জনগণই করবে। মন্ত্রী আরও বলেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজের ঘটনায় নির্মোহভাবে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন