তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৪৭ মিনিট আগে, ০৪:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার

অপ্রতিমকে বাসা থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ডেকে নেয় তুহিন

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের সিনিয়র বন্ধু সাইফুল ইসলাম তুহিন মেসেজ পাঠিয়ে তাকে বাসা থেকে ডেকে জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার দিকে জঙ্গলে অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন (১৯), ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। এ ছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে তাকে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ফাহাদের তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায় তার মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার সকালে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পরে তারা সেখান থেকে চলে যান। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ তুহিনকে সানন্দায় তার বাসা থেকে আটক করেন। পরে তার মোবাইল ফোনে অপ্রতিমের সঙ্গে কথোপকথন এবং তাকে ডেকে নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। এর আগে গন্ধমতি স্কুল মাঠে দ্বিতীয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন