প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে স্থান পেয়েছিলেন ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন শেখ সুমন। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছেন আলাউদ্দিন শেখ সুমন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক ব্যস্ততা এবং নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আলাউদ্দিন শেখ সুমন বলেন, “আমি সবসময় পদ-পদবির চেয়ে সংগঠন ও দেশকে বড় করে দেখেছি। দীর্ঘদিন রাজপথে থেকেছি দলের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় আদর্শ, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, দুর্নীতি ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ, নারী নেতৃত্বের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অসাম্প্রদায়িক ও উদার চিন্তার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে ধারণ করে।”
তিনি বলেন, “দলীয় নেতৃত্বের ভালোবাসা ও আস্থার কারণে আমি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা আমার জন্য নিঃসন্দেহে সম্মানের বিষয়। কিন্তু বর্তমান পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতার কারণে আমি মনে করছি, এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব শতভাগ নিষ্ঠা, সময় ও মনোযোগ দিয়ে পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
আলাউদ্দিন শেখ সুমন আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক পথচলায় যারা সবসময় পাশে থেকেছেন, দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ জনগণের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের ভালোবাসা, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা ছাড়া এতদূর পথচলা সম্ভব হতো না। আমি সবসময় তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে কখনো ব্যক্তিগত লাভ বা পদ-পদবির মাধ্যম ছিল না। আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্বে না থাকলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। ভবিষ্যতে যদি পরিস্থিতি অনুকূলে আসে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে আবারও সংগঠনের জন্য নিজেকে নিবেদিত করতে প্রস্তুত থাকব। মানুষের ভালোবাসা ও দলের আদর্শই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েও তিনি দলীয় আদর্শ, নেতৃত্বের প্রতি সম্মান এবং জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন