তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস বেদখলের চেষ্টা, জনমনে ক্ষোভ

কুমিল্লার লাকসামের ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে থাকা ওয়াকফ এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গতকাল ক্যাম্পাসের দক্ষিণ প্রান্তে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে বাধা দেয় চক্রটি। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক বালু ফেলে কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আরএস ২২২২ দাগের ৭১ শতক জায়গা প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির পাঁয়তারা শুরু করে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের পোস্ট অফিসসংলগ্ন ২২১৬ দাগের আরও ১৪ শতক ভূসম্পত্তিও দখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ প্রান্তের বিরোধপূর্ণ এই ৭১ শতক জমি ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত এবং একই সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সরকারি গেজেটভুক্ত ঐতিহ্যিক সম্পদ। ক্যাম্পাস সীমানার ভেতরের এই জমি বেদখল হলে বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং কলেজের নতুন অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, উপমহাদেশের অনন্য নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক কাজে মোট ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ করেছিলেন। তবে সঠিক তদারকির অভাবে ইতোমধ্যে প্রায় ২৯০ একর জমি বিভিন্ন চক্রের হাতে চলে গেছে।

সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রভাবশালীদের এই চক্রটি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি নিজেদের নামে ত্রুটিপূর্ণ ‘বিএস’ খতিয়ান তৈরি করে বেচাকেনা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে ওয়াকফ প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চরম উদাসীনতা রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা দ্রুত বেআইনি খতিয়ান বাতিল, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঐতিহাসিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূসম্পত্তি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 

মন্তব্য করুন