প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:২৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সামুদ্রিক কার্যক্রম ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধাবস্থার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ৭৭টি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।
কেপলার তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫টি থেকে একলাফে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রচলিত আন্তর্জাতিক নৌপথ এড়িয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ এখন ইরানের নির্ধারিত বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চলাচলকারী ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই তেহরানের বেধে দেওয়া রুট ধরে চলেছে। এমনকি গত রোববার পাড়ি দেওয়া ৮টি জাহাজের মধ্যে ৭টিই ইরানের নির্দেশনা অনুসরণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্ব সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহনকারী এই জলপথ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাতের মুখে রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই মার্কিন নৌ অবরোধের সীমানা থেকে শুরু করে উপসাগরজুড়ে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন, যেখানে প্রবেশ করলেই জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তেলের দাম প্রতি গ্যালন ২ ডলারে নেমে আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত এই প্রণালিটির নাম বদলে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার চিন্তাভাবনা করছেন।
মন্তব্য করুন