প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশি ক্যানসার রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য বিনা মূল্যে ‘সেকেন্ড ওপিনিয়ন’ বা দ্বিতীয় চিকিৎসা-পরামর্শ এবং চিকিৎসা-নির্দেশনা সেবা চালু করেছে ভারতের হায়দরাবাদভিত্তিক স্টার হসপিটালের বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা ইউনিট স্টার ক্যানসার সেন্টার। সোমবার স্টার ক্যানসার সেন্টারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে যাওয়ার আগেই রোগ নির্ণয়, বর্তমান চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিনা মূল্যে পরামর্শ পাবেন। ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তা কমানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অঙ্গভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসার স্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
স্টার ক্যানসার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন। বিশেষ করে স্তন, ফুসফুস, জরায়ুমুখ, খাদ্যনালি এবং পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ খুঁজছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ক্যানসার চিকিৎসার শুরুতেই সঠিক রোগ নির্ণয় হলে কম আক্রমণাত্মক ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়ে। আর অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন, ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা কিংবা ইমিউনোথেরাপির মতো বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্য থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একাধিক বিশেষজ্ঞের সমন্বিত মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সেবার অধীনে নিবন্ধিত রোগীরা দেশে বসেই তাদের যাবতীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট ও নথিপত্র বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করাতে পারবেন। অঙ্গভিত্তিক মেডিকেল, সার্জিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড এই কেসগুলো পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ পরিকল্পনা, সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়, হাসপাতালে থাকার সময়কাল ও ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ভারতের হায়দরাবাদের বানজারা হিলস ও নানাকরামগুড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে স্টার হসপিটাল। তাদের ক্যানসার ইউনিট ছাড়াও মূল হাসপাতালে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, সার্কভুক্ত দেশ ও মধ্য এশিয়াসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে আন্তর্জাতিক রোগীরা সেবা নিতে আসেন।
উদ্যোগটি সম্পর্কে স্টার হসপিটালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. বিপিন গোয়েল বলেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর রোগী ও তাদের পরিবার প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে যান। এই অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের নাগরিকদের এই সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ল্যাপারোস্কোপিক ও রোবটিক সার্জন আরো বলেন, চিকিৎসা শুরুর আগেই রোগীদের যাচাইকৃত সঠিক বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়া হলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং চিকিৎসা-পরিকল্পনায় স্পষ্টতা আসবে।
মন্তব্য করুন