প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল মানিব্যবস্থা বা ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন, ফলে ঘরে বসেই ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি আগামী জুন পর্যন্ত চার মাস চলবে এবং এর জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবার সঠিক হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে বিভিন্ন শর্ত বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে তা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে, পেনশনভোগী হলে বা পরিবারটির নামে বড় ব্যবসা, বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে কিংবা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবার ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।
সরকার বলছে, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হওয়ার পর হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারগুলোকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন