প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বলিউডের গ্ল্যামার আর নাচের ছন্দে দর্শক মাতানো নোরা ফাতেহি ক্যারিয়ারের সাফল্যের আড়ালে থাকা নিজের জীবনের এক বিষণ্ণ অধ্যায় নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। শৈশব, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তা তাঁর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নোরা অকপটে স্বীকার করেছেন যে তাঁর ‘ড্যাডি ইস্যু’ রয়েছে। খুব অল্প বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি তাঁর মায়ের কাছে বড় হন। বাবার অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘকাল যোগাযোগ না থাকায় পুরুষদের প্রতি তাঁর মনে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। শৈশবের সেই একাকীত্ব নোরাকে মানসিকভাবে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, পরবর্তী জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাঁর প্রতিটি ব্যক্তিগত সম্পর্কে।
নিজের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নোরা জানান, ছোটবেলায় একা হয়ে যাওয়ার ভয় তাঁকে সবসময় তাড়া করত। এই ভয় থেকেই তিনি অনেক সময় ভুল সম্পর্কেও নিজেকে আটকে রাখতেন। কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা মেনে নেওয়া নোরার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে না পেরে তিনি অকারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। তাঁর মতে, আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কেবল একাকীত্ব ঘোচাতে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সুখকর নয়।
পেশাদার জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে নোরার নাম জড়িয়েছে। কোরিওগ্রাফার টেরেন্স লুইস থেকে শুরু করে অভিনেতা অঙ্গদ বেদি, প্রিন্স নারুলা, এমনকি মরক্কোর ফুটবলার আশরাফ হাকিমির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেছে। এছাড়া টি-সিরিজের চেয়ারম্যান ভূষণ কুমারের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে বিতর্ক হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে নোরা বরাবরই রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছেন।
কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠা প্রসঙ্গে নোরা তাঁর মায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, ভাঙা সম্পর্ক ভোলা সহজ নয়, তবে সময় এবং ‘আত্মভালোবাসা’ মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। বর্তমানে নিজের ভুলগুলো চিনতে পেরেছেন নোরা। তিনি অন্যদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত। নিজেকে ভালোবাসতে শিখলে জীবনের ভয়গুলো ক্রমশ কমে আসে এবং জীবন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে বলে বিশ্বাস করেন এই তারকা।
মন্তব্য করুন