মোঃ ইমাম হোসাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৪৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আজই ইরানে হামলা হতে পারে বলে জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আজ রোববারই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে হয়তো সামরিক অভিযান ‘শেষ করতে হবে’, অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভাবছি এবং হতে পারে কালকেই (রোববার) তা হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হামলা করব কিনা, তা কি আসলেই আপনাদের আগে থেকে বলে দেব?’

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছালে ইরান সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু মূল সমস্যা হলো তারা কি সেই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে?’

ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তার প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে চালানো অভিযান দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী করতে হবে। আর একমাত্র সে কারণেই আমি পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করেই ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল বেড়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক আলোচনা—দুই সম্ভাবনাই খোলা রেখেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে হয়তো বিষয়টি শেষ করতে হবে, অথবা তারা হয়তো একটি চুক্তি করবে। তবে আমি এখনো নিশ্চিত নই। যে পথেই যাক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। মার্কিনিদের ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা ‘সবকিছু এলেমেলো করে দিয়েছে’। তবে এর মধ্যেও তেহরানের চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন।

 

মন্তব্য করুন