প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের পর বুথফেরত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশটির প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, নেতানিয়াহুপন্থী শিবির ৫০ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইহুদি নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য আসন ৫১ থেকে ৫৩টি। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন।
তবে জরিপগুলোর হিসাব এক নয়। চ্যানেল ১২-এর প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুপন্থী শিবিরের আসন ৫০ এবং বিরোধী শিবিরের আসন ৫২টি ধরা হয়েছিল। পরে হালনাগাদ জরিপে নেতানিয়াহুপন্থী শিবিরের সম্ভাব্য আসন বেড়ে ৫২টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরব নেতৃত্বাধীন দল দুটি—জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম—মিলিয়ে প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দল দুটি বর্তমানে পার্লামেন্টে মোট ১০টি আসনের অধিকারী। এই আসনগুলো সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফল নয়। ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে।
বিরোধী দল বি'ইয়াচাদ ১২ থেকে ১৪টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটস, জয়েন্ট লিস্ট, রা'আম, ইসরায়েল বেইতেনু এবং কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিতসহ অন্যান্য দলের আসনসংখ্যাও সরকার গঠনের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পেলে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি ইহুদি নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনী প্রচারে আরব-প্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট বুথফেরত জরিপের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ফল নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফল একই রকম হলে এটি ইসরায়েলের দায়িত্বশীল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয় হবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। ইয়িসরাইল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান এবং বি'ইয়াচাদ দলের নেতা নাফতালি বেনেট আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন না করার অঙ্গীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান পরিবর্তনের সরকার গঠনে সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি রা'আমের সঙ্গে জোট করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছিলেন।
নির্বাচনে ভালো ফলের পূর্বাভাস পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। রা'আমের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দুই শিবিরের নেতারাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, শুধু পরিবর্তনপন্থী শিবির নয়, নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবির থেকেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও আব্বাস বলেছেন, এমন সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা আছে কি না, তা আগে স্পষ্ট হতে হবে।
অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনী কার্যালয়ে সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ১০ থেকে ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটির নেতারা নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীদের ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে সরকার গঠনের জন্য এমন প্রার্থীকে দায়িত্ব দিতে হবে, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই প্রেসিডেন্টের কাছে সরকার গঠনের সুযোগ চাইতে পারেন।
তবে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও ইসরায়েল দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছিল। ওই সময় দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭ শতাংশের বেশি বলে প্রাথমিক হিসাবে জানানো হয়েছে। তবে বুথফেরত জরিপের ফল এবং চূড়ান্ত ফলের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কোন রাজনৈতিক সমীকরণে গঠিত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
মন্তব্য করুন