তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবার, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সমকামী সেজে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন বাংলাদেশিদের, গ্রেফতার ৩

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের সমকামী সাজিয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদন তৈরির অভিযোগে একটি সন্দেহভাজন চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ছবি, নথিপত্র ও সমর্থনসূচক প্রমাণ তৈরির বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন অভিবাসন কর্মকর্তারা লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে মোবাইল ফোন, অলংকার ও কয়েক হাজার পাউন্ড জব্দ করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের করা কয়েকটি আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করেছিল। এসব আবেদনে দাবি করা হয়, আবেদনকারীরা সমকামী এবং নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশিদের সমকামী সংগঠন ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকটি সন্দেহজনক আশ্রয় আবেদনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়।

তিনি বলেন, আবেদনগুলোর নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট ধরনের মিল খুঁজে পান। এরপর সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে কয়েক মাস ধরে তদন্ত চালানো হয়।

ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি ভুয়া নথিপত্র সরবরাহের বিনিময়ে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ দাবি করতে পারে। এসব নথির মধ্যে ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র, সাজানো ছবি এবং আবেদনকারী সমকামী—এমন দাবিসংবলিত চিঠি থাকতে পারে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফস্টার জানান, এসব ভুয়া আবেদনের কিছু অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

এর আগে ‘আপনজন’-এর দেওয়া কিছু প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসনবিষয়ক বিচারকরা। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে আবেদনকারী সংগঠনটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার দাবি করলেও পরে দেখা যায়, তার জমা দেওয়া ছবিগুলো সাজানো ছিল।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কিছু পুরুষ সমকামী পরিচয়ে নতুন করে আশ্রয়ের দাবি করলে সংগঠনটি তাদের পক্ষে সাক্ষ্য বা সমর্থন দিত। একটি ঘটনায় একজন ব্যক্তি তার মূল আবেদনের নয় বছর পর প্রথমবার নিজের যৌনতার বিষয়টি সামনে আনেন।

চলতি বছরের শুরুতে বিবিসির এক অনুসন্ধানেও আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়ে নিজেদের উপস্থাপনে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজন পরামর্শদাতার কর্মকাণ্ড উঠে আসে। ওই অনুসন্ধানের পর মে মাসেও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর।

এপ্রিলের ওই অনুসন্ধানে তানিসা খান নামের এক পরামর্শদাতা ছদ্মবেশী সাংবাদিককে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে বিবিসি জানায়। এতে সমকামী ক্লাবের ছবি ও অন্যান্য সমর্থনসূচক প্রমাণ থাকার কথা বলা হয়েছিল। তাকে ‘উস্টার এলজিবিটি’ নামের একটি কমিউনিটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

তদন্তে আরও উঠে আসে, ভুয়া শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত এবং মিথ্যা খবর প্রচারকারী ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কিছু আশ্রয় আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

‘উস্টার এলজিবিটি’ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রে বানোয়াট প্রমাণ তৈরি বা সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সমকামী কি না, সেটি নির্ধারণ করা সংগঠনটির কাজ নয় বলেও তিনি জানান।

অভিযুক্ত তানিসা খানও সাংবাদিককে পরামর্শ দেওয়া কিংবা বানোয়াট প্রমাণ তৈরির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভুয়া দাবি করে, তারা প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ক্ষতি করে। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রতারণায় জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় সংক্রান্ত প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মন্তব্য করুন