প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি দাবি করেছেন, সংসদে পাওয়া একটি লিফলেটের মাধ্যমে দলটির গণভোটসংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, যা তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কেন সংস্কার চায় সেখানে (লিফলেট) কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছেন। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নাই। এখানে বলেছেন, গণভোটের কথা ব্যাখ্যা করেছি। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করা হয়েছে। দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য ল। জুলাই জাতীয় সনদ যেটা ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল, লিফলেটে সেটির নাম-চিহ্ন নাই। গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা (লিফলেট) পড়তে যেয়ে মনে হলো, ৩৩ এ পাসের একটা থিওরি আছে। এটা পড়তে যেয়ে মনে হলো আমি কি ৩৩ এ পাসের স্টেজে আছি। ৩৩ এ পাস এলো ১৮৫৪ সালে, এই উপমহাদেশে যখন ম্যাট্রিকুলেশনের পরীক্ষা শুরু হবে সেই সময়। তখন ব্রিটেনে পাসের মার্কস ছিল ৬৫ নম্বর। ব্রিটিশরা মনে করতেন, এই উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশদের থেকে অর্ধেক বুদ্ধি ধারণ করেন। তাই উনারা সাড়ে ৩২ নাম্বারে পাসের মার্কস করলেন। ওখানে ছিল ৬৫, এখানে হলো সাড়ে ৩২। চার বছর পরে ১৯৬২ সালে এটা ৩৩ করা হলো। আমার মনে হচ্ছে, উনারা এমনভাবে লিখেছেন আমি কি সেই ৩৩ এ পাসের মতন উনাদের থেকে এখনও অর্ধশিক্ষিত আছি? যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদের কোনও শব্দ নেই।’
আইনমন্ত্রী বলেন, লিফলেটটিতে বিরোধী দলগুলোর সংস্কার দাবি উল্লেখ থাকলেও সেখানে জুলাই জাতীয় সনদের কোনো উল্লেখ নেই, যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, এ ধরনের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর এবং সংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, গণভোটের প্রশ্নে দলটির অবস্থান স্পষ্ট নয় এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
মন্তব্য করুন