প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেক তারকাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অভিনেত্রী জয়া আহসান ফেসবুকে লিখেছেন, “একজনের কনটেন্ট বানানো আর মজা করার জন্য যে তাকে নির্মমভাবে অনর্থক মরতে হবে, এটা সে বোঝেনি। বোকা কুকুর!” অভিনেত্রী দীপা খন্দকার লিখেছেন, “ভয়ানক।” অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, “এ দেশে মানুষের চেয়ে অমানুষের সংখ্যা বেশি। সভ্যদের চেয়ে অসভ্যের সংখ্যা বেশি। দেশ খারাপ না ভাই, দেশের মানুষগুলো খুব খারাপ!”
গায়ক তানজীব সারোয়ার লিখেছেন, “মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাকিয়ে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও ভেবেছিল, ওর এই বিশ্বস্ত লোকটা তাকে বাঁচাবে। কিন্তু এখানে কুমিরের দোষ নেই; কারণ, কুমিরের খিদে পেলে সে দেখামাত্রই খেয়ে ফেলে। আর এখানে নিরীহ কুকুর, এটাই কি মনুষ্যত্ব?”
তবে মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিওতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়নি। মাজারের ঘাটের পাশের দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল এবং একটি শিশুকে কামড়ও দেয়। পরে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির তাকে ধরে নিয়ে যায়।
মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘাটে কুমিরটি অবস্থান করছিল। হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ কুকুর এসে তার পায়ে আঁচড় দেয়। আত্মরক্ষার্থে পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায় এবং কুমির তাকে ধরে নিয়ে যায়। আধা ঘণ্টা পর কুকুরটি ভেসে উঠলে তাকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।”
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। আসল ঘটনা অনুসন্ধানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি।
ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকে প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনাটি আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ঘটেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মন্তব্য করুন