প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৭:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ ঘটনায় পারস্য উপসাগরের তলদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পারস গ্যাস ফিল্ড-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানান, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের বড় অংশ সরবরাহকারী এই স্থাপনাটিতে শক্তিশালী আঘাত হানা হয়েছে। এতে করে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে, সংঘাতের প্রভাব রাজধানী তেহরান-এও ছড়িয়ে পড়ে। পৃথক এক হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি-এর গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরি নিহত হওয়ার কথাও জানায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
শহরের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সংলগ্ন এলাকায় হামলার পর আজাদি স্কয়ার এলাকায় কালো ধোঁয়া দেখা যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে।
এই হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালায়। উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেলের দামও বেড়েছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন