প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৬: অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। সংশোধিত এই বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হলেও ঋণের সুদ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ভর্তুকি এবং কৃষিঋণ মওকুফের কারণে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।
গত সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন, ২০২৬ উপস্থাপনের পর সমাপনী বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় কিছুটা সংকুচিত করা হয়েছে। মূল ও সংশোধিত বাজেটের প্রধান সূচকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সরকারি নিট ব্যয় (মূল): ৭,৯০,০০০ কোটি টাকা
সরকারি নিট ব্যয় (সংশোধিত): ৭,৮৮,০০০ কোটি টাকা (২,০০০ কোটি টাকা হ্রাস)
বাজেট ঘাটতি: ২,০০,০০০ কোটি টাকা
জিডিপির অনুপাতে ঘাটতি: ৩.৩%
সংশোধিত বাজেটে মোট ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বরাদ্দ কমানোর মোট পরিমাণ ৫৯,৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
বাড়তি বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে অর্থ বিভাগ। প্রধান বিভাগগুলোর অতিরিক্ত বরাদ্দের চিত্র:
| মন্ত্রণালয়/বিভাগের নাম | অতিরিক্ত বরাদ্দের পরিমাণ |
|---|---|
| অর্থ বিভাগ | ২৩,৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা |
| পরিকল্পনা বিভাগ | ১২,৪০৮ কোটি টাকা |
| আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ | ১,৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা |
| বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) | ২২ কোটি টাকা |
বরাদ্দ বৃদ্ধির ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী জানান, বাড়তি ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি চলে গেছে ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি এবং কৃষিঋণ মওকুফ খাতে। ব্যাখ্যামূলক স্মারক অনুযায়ী প্রধান কারণগুলো হলো: ১. অভ্যন্তরীণ দেনার সুদ ও শেয়ার মূলধনের জোগান। ২. বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা সমন্বয়। ৩. সরকারের অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ। ৪. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দুটি এবং এডিপি বহির্ভূত চারটি বিশেষ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংস্থান।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন:"বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যয় সংকোচনের মধ্যেও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিত-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা করার কারণে সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতি কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে।
মন্তব্য করুন