প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গোপন চুক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর অত্যন্ত গোপনে চীনের ‘আর্থ আই কোম্পানি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘টিইই-০১বি’ (TEE-01B) স্যাটেলাইটটি সংগ্রহ করে ইরান। এই লেনদেনটি সম্পন্ন হয়েছে ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ মডেলে। এর অর্থ হলো, চীন মহাকাশে স্যাটেলাইটটি সফলভাবে স্থাপনের পর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ইরানের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর পাশাপাশি বেইজিং ভিত্তিক সংস্থা ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহারের সুবিধা পাওয়ায় এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বিশাল অঞ্চলে নজরদারি চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে আইআরজিসি।
নজরদারির লক্ষ্যবস্তু ও সাম্প্রতিক তৎপরতা
গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই স্যাটেলাইটটি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে উচ্চমানের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। কাকতালীয়ভাবে সেই সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও এই স্যাটেলাইট দিয়ে নজরদারি চালানো হয়েছে। কুয়েত, জিবুতি এবং ওমানের মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও এখন ইরানের এই ডিজিটাল নজরদারির আওতায় রয়েছে।
চীন-ইরান অঘোষিত মৈত্রী?
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, বেইজিং সরাসরি এই যুদ্ধে অংশ না নিলেও নেপথ্যে থেকে ইরানকে নিরবচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। কারণ সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো চীনা কোম্পানির পক্ষে এ ধরনের স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা প্রায় অসম্ভব। যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবরের মতোই ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকেও ইরান এ ধরনের উপগ্রহ সহায়তা পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা মার্কিন সেনাদের গতিবিধি ট্র্যাক করার মাধ্যমে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। মহাকাশে ইরানের এই জয়জয়কার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের জন্য একটি নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন