তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ, ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ: অর্থমন্ত্রী

দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী মহলের অনিয়মিত ঋণ গ্রহণজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ রবিউল বাশারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ–এর সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, সেসব ব্যাংকের জন্য ‘শ্রেণিকৃত ঋণ নিষ্পত্তি কৌশল’ (রেজোল্যুশন স্ট্র্যাটেজি) সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) আইনের আওতায় ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার নং-৬ (১২ মার্চ ২০২৪) জারি করা হয়েছে।

অর্থ পাচার রোধে জোরদার উদ্যোগ
অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের সুপারিশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর ও ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে সংযুক্ত বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ১৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে; এর মধ্যে ১৬টিতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে।

এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম–কে আজীবন এবং ড. শামসুদ্দিন আহমেদ–কে পাঁচ বছরের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

মন্তব্য করুন