প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১২:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন আহমেদের করা মামলায় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় গত বুধবার (৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জামিন নিতে আদালতে যান পরীমনি।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ আদেশ দেন। মামলাটি ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে করেন বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। এতে পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে মদ পান করেন এবং মূল্য পরিশোধ না করে পার্সেল নিয়ে যান। এ ছাড়া পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে ক্লাবের দ্বিতীয় তলার শৌচাগার ব্যবহার করে ভেতরে বসে মদ পান করেন।
এর আগে, ওই বছরের ১৪ জুন বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী, শাহ শহিদুল আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি।
বোট ক্লাবের সেই রাতের ঘটনা
২০২১ সালের ৯ জুন মধ্যরাতে বোট ক্লাবের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে নাসির উদ্দিনের সঙ্গে পরীমনিকে দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার চার দিন পর ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি অভিযোগ করেন, নাসির ও অমি তাঁকে মদ পান করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মদ পান করতে না চাইলে নাসির জোর করে তাঁর মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে পান করানোর চেষ্টা করেন।
তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত ভিডিওতে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে পরীমনিকে ক্লাবের ভেতরে অন্যদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় মদ পান করতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওতে নাসিরকে পরীমনিকে শান্ত করার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, বোট ক্লাবের ঘটনার আগের রাতে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুর ও বার-কর্মীদের মারধরের অভিযোগও উঠেছিল পরীমনির বিরুদ্ধে। বনানীর একটি ক্লাবেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবের কর্মীরা তাঁদের জানিয়েছেন, পরীমনি ও তাঁর সঙ্গীরা স্বেচ্ছায় বসে মদ পান করছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর একটি বিদেশি মদের বোতল নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ওই রাতের কয়েকটি খণ্ডিত ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর একটি ফুটেজে পরীমনিকে নাসির উদ্দিনকে গালাগাল করতে দেখা গেছে বলে তদন্ত সূত্রের দাবি।
২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
মামলাটি দায়েরের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে পরীমনিকে।
মন্তব্য করুন