প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের পোশাক ও পরিচয় দেখে তাঁদের চিকিৎসক, নার্স নাকি দালাল—তা বোঝা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন চিকিৎসককে নিজ কক্ষে না পেয়ে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “এখানকার রোগীদের সব সময় অভিযোগ থাকে, তারা ঠিকমতো চিকিৎসা পান না, চিকিৎসক থাকেন না। এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। তিনি এ জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। আজকে আমরা (দুদক) ঢাকা মেডিকেলে এসেছি। এরপর অন্যান্য হাসপাতালেও যাব।”
পরিদর্শনকালে জরুরি বিভাগের কয়েকটি কক্ষে চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানভীর এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধানকেও নিজ কক্ষে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন।
চিকিৎসকদের পোশাক ও পরিচয়পত্র না থাকার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “ঢাকা মেডিকেলে এসে জরুরি বিভাগে কয়েকটি রুমে চিকিৎসকদের পাইনি। জরুরি বিভাগের ডা. তানভীর, এ ছাড়া নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধানকেও তার রুমে পাইনি। জরুরি বিভাগের ডিউটি ডাক্তার কারোর ড্রেসআপ নেই। তারা ডাক্তার, নার্স না কি দালাল তা বোঝা মুশকিল। এ জন্য ডাক্তারদের আইডেনটিফাই করতে পারছি না। তারা সেবা দিচ্ছে কি না সেটিও জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন বাজে বেলা সোয়া বারোটা, ডাক্তারদের কেউ বলছেন বাইরে গেছেন, কেউ বলছেন চা খেতে গেছেন। রোগীরা চিকিৎসার জিনিসপত্র খুঁজতে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। এতে আসলে জনগণ ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া ডাক্তারদের অনুপস্থিতি, চিকিৎসা রুমে পরিবেশ নোংরাসহ বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে, এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুদক চেয়ারম্যান জানান, হাসপাতাল পরিচালককে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুদকও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য এবং চিকিৎসকদের কেউ কেউ দালালি ও রোগী ভাগানোর সঙ্গে জড়িত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশনে যাব। প্রাইভেট হাসপাতালের এটি একটি ব্যবসা। এটি বন্ধ করতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। এটি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।”
এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি হাসপাতালটিতে নতুন এসেছি। আসার পর কিছু পরিবর্তন করতে পেরেছি। দুদক চেয়ারম্যান যে বিষয়গুলো বলেছেন, আমরা সেগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকসহ সবার কাছে সাহায্য চেয়েছি।”
মন্তব্য করুন