প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং ইউক্রেইন সংকটকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাম্প্রতিক চীন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪-১৫ এপ্রিল বেইজিং সফরে ল্যাভরভ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউক্রেইন যুদ্ধ, ইরান সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং রাশিয়া-চীন দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠকে দুই পক্ষই বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে “জটিল ও অস্থির” বলে উল্লেখ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় ল্যাভরভ রাশিয়া ও চীনকে নিজেদের “বৈধ স্বার্থ” রক্ষা এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, ল্যাভরভের এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা চললেও দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ এবং ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে চীন। ১৪ এপ্রিল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চীন এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের আগে বেইজিং তার কৌশলগত অবস্থানও ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে চাইছে।
লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের গবেষক ইউ জি বলেন, চীন বর্তমান পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং নিজেদেরকে “স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক শক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
রেডিও ফ্রি ইউরোপের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সম্ভাব্য আলোচনার আগে ল্যাভরভের এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন, যার মধ্যে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস রয়েছে—চীন-ইরান সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও এসব অভিযোগ চীন আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৈঠকে উভয় পক্ষই বহুপাক্ষিক কাঠামো, ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়।
ল্যাভরভ বৈঠকে বলেন, বর্তমান বিশ্ব “একতরফা আধিপত্যবাদের চাপে” অস্থির হয়ে পড়েছে এবং রাশিয়া-চীন সম্পর্ক এই পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতার ভূমিকা রাখতে পারে। জবাবে ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব “অটুট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও উচ্চতর পর্যায়ে যাবে।”
মন্তব্য করুন