প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১১:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগর থেকে দেশটির পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলের ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ডিপ সি’, ‘সেভিন’ এবং ‘দোরেনা’ নামের এই জাহাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল। গত ১২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো আটকের ঘটনা।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্র্যাফিক’-এর তথ্যমতে, জাহাজগুলোকে ভারত মহাসাগরের এমন একটি অঞ্চল থেকে জব্দ করা হয়েছে যার খুব কাছেই ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার জলসীমা। জব্দকৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘ডিপ সি’ একটি সুপারট্যাংকার, যা আংশিক তেলপূর্ণ ছিল এবং গত সপ্তাহে একে মালয়েশিয়া উপকূলে দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় জাহাজ ‘সেভিন’-এ প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল পাওয়া গেছে, যা এর মোট ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য মিলেছে ‘দোরেনা’ জাহাজটি জব্দের মাধ্যমে; এটি সম্পূর্ণ তেলবোঝাই ছিল এবং এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গেছে। তিন দিন আগে জাহাজটি ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
সেন্টকোম বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে বলপূর্বক বন্দরে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তেলের ট্যাংকারগুলো জব্দের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে, যা দেশ দুটির মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থাকলেও সাগরে এই ধরনের সামরিক তৎপরতা নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন