মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৪:১৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জে আদালতে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর দল

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের গতিবিধি নজরদারির অভিযোগ তুলেছে দলটি। তবে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে লিকুদ পার্টির কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিকুদের আইনজীবী ইলান বোমবাখ জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন দলটির ভোটকেন্দ্রের পর্যবেক্ষকেরা আরব দলগুলোর কর্মীদের বিরুদ্ধে অ্যাপ ব্যবহারের ৭০০টি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি ঘটনায় শত শত বা হাজার হাজার ভোট প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে।

লিকুদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের উপস্থিতি ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আরব দলগুলো ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি দলটির।

এ বিষয়ে জেরুজালেম জেলা আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ। তবে পুরো নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হবে, নাকি নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আপিল করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ১৭ নভেম্বর আপিলের শেষ সময়সীমা।

এদিকে, সিভিলিয়ান ইলেকশন গার্ড নামের একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে অ্যাপের ৩৭৪টি কথিত অবৈধ ব্যবহারের ঘটনা শনাক্ত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার ৩২ শতাংশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন লিকুদ পার্টির কর্মী ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের কর্মীরা ১০ শতাংশ, শাস পার্টি ৬ শতাংশ, রা’আম ২ শতাংশ এবং জয়েন্ট লিস্ট ১ শতাংশ।

নির্বাচনসংক্রান্ত দুটি জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রা’আমের পক্ষে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে আটক তিন বেদুইন কর্মীর মামলাটি নতুন প্রমাণ না পাওয়া গেলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টকে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের তদন্তেও প্রাথমিকভাবে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার পাওয়া তথ্যের অমিল রয়েছে।

নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ফলাফল চূড়ান্ত করে প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগের কাছে জমা দিয়েছে। কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সলবার্গ বলেছেন, তদন্তাধীন অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলেও সেগুলো নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করার মতো বড় নয়।

এদিকে, পার্লামেন্টের ৬৭ জন সদস্য বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হারজোগ আইজেনকটকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।

 

মন্তব্য করুন