ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৬:০২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির ৮ ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ, দায়িত্ব নিলেন সরকারি কর্মকর্তারা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে আটটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট প্রশাসকেরা নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ঝালকাঠি জেলার সদর, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও নলছিটি উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব বিষ্ণুপদ পাল স্বাক্ষরিত স্মারক নং-৪৬.০০৪২০০.০১৭.০০০১.২০-৮৫৪, তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঝালকাঠির স্থানীয় সরকার শাখা থেকে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার জুলিয়া সুকায়না স্বাক্ষরিত ৪ অক্টোবরের পত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ তাঁর আওতাধীন পোনাবালীয়া ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে ১ নম্বর গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলী আহম্মদ, ২ নম্বর বিনয়কাঠী ইউনিয়নে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, ৩ নম্বর নবগ্রাম ইউনিয়নে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম, ৪ নম্বর কেওড়া ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, ৬ নম্বর বাসন্ডা ইউনিয়নে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মাছুম খান, ৮ নম্বর গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম সাইদুর রহমান, ৯ নম্বর শেখেরহাট ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ তমিজউদ্দীন এবং ১০ নম্বর নথুল্লাবাদ ইউনিয়নে মোঃ তরিকুল ইসলাম প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এদিকে বিনয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান প্রশাসক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ এবং জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন তাঁর ওপর যে আস্থা ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে গৃহীত কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান আরও উন্নত করে তা ইউনিয়নবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

দায়িত্ব পালনে ইউনিয়নবাসীসহ সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করে প্রশাসক মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে এলাকার উন্নয়ন, জনসেবা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও সর্বাত্মক ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

নতুন প্রশাসকদের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

মন্তব্য করুন