মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৪২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে হঠাৎ প্রচার হচ্ছে ‘পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়’

ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনার মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নাগরিকদের জন্য পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে। এতে বিস্ফোরণের মুহূর্তে করণীয়, তেজস্ক্রিয় ধুলা থেকে সুরক্ষা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকার প্রথম পরামর্শ হলো, পারমাণবিক বিস্ফোরণের তীব্র আলোর দিকে তাকানো যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে শক্ত কোনো আড়ালের পেছনে আশ্রয় নিতে হবে। এরপর মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। বিস্ফোরণের ধাক্কা থামা পর্যন্ত এ অবস্থায় থাকতে হবে।

দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কা থেমে গেলে কাছের কোনো ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। এ সময় জানালা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। গাড়িকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় নির্দেশনায় তেজস্ক্রিয় ধুলা থেকে শরীর পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খোলা ত্বক কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুল পরিষ্কারে সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে, কন্ডিশনার নয়। গোসলের সুযোগ না থাকলে মুখ, হাত ও শরীরের খোলা অংশ পানি বা ভেজা টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে।

চতুর্থ নির্দেশনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়ের মধ্যে থাকতে হবে। এ সময় বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেই বাইরে বের হওয়া নিরাপদ—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সম্প্রচার শুনে নিরাপদে বের হওয়ার নির্দেশনা জানতে হবে। তবে আশ্রয়স্থল ভবনে আগুন লাগলে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলে আরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।

নির্দেশিকার মূল বার্তা হলো, বিস্ফোরণের সময় দ্রুত সতর্কতা নেওয়া, উপযুক্ত আশ্রয়ে থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা। নিরাপদ হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ইরানের কর্তৃপক্ষ এটিকে বার্ষিক ‘প্যাসিভ ডিফেন্স সপ্তাহ’-এর অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

২০২৫ সালের জুনে সংঘাতের সময় ইরান সরকার মূলত জানিয়েছিল, তেজস্ক্রিয়তা নির্দিষ্ট স্থাপনার বাইরে ছড়িয়ে পড়েনি। এবারের নির্দেশিকায় নাগরিকদের জন্য বিস্তৃত সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে নতুন করে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইরনা।

 

 

মন্তব্য করুন