স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৩৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ফাইনালে ৩২৬ রান তাড়া করে ভারতের ২৪ বছরের রেকর্ড ভাঙল পাকিস্তান

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ইতিহাস গড়েছে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রান করার নতুন রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভারতের দখলে। ২০০২ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেই ম্যাচে যুবরাজ সিং ও মোহাম্মদ কাইফের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দুই উইকেটে জয় পেয়েছিল দলটি। ভারতীয় ক্রিকেটের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি হয়ে আছে ম্যাচটি।

২৪ বছর পর একই রানের লক্ষ্য তাড়া করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসায় পাকিস্তান। তবে ভারতের চেয়ে এক রান বেশি করে নতুন রেকর্ড নিজেদের করে নেয় তারা। ভারত নির্ধারিত লক্ষ্য তাড়া করে ৩২৬ রান করলেও পাকিস্তান জয় নিশ্চিত করে ৩৩১ রান তুলে।

পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ দিকে ৩২৫ রানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ছক্কা হাঁকান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর সেই ছক্কাতেই নতুন রেকর্ড গড়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে সফল রান তাড়ার তালিকায় তৃতীয় স্থানেও রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের নাম। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৯৩ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮৫ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি। পঞ্চম স্থানে নিউজিল্যান্ড। ২০০৫ সালে হারারেতে ভারতের বিপক্ষে ২৭৭ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।

ফাইনালে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা আট উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন কামিন্দু মেন্ডিস। ১২৮ বলে ১৩১ রান করেন তিনি। পাভন রত্নায়েকে করেন ৭৭ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৪ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারায় দলটি। বাবর আজম কোনো রান না করেই আউট হন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ফখর জামান। ৯৯ বলে ১২৭ রান করেন তিনি। সাদ বেগের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১৪৯ রানের জুটি।

শেষ দিকে আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ব্যাটিং পাকিস্তানের জয়ের পথ সহজ করে দেয়। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন তিনি। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে তাঁর জুটিতে আসে ৯৪ রান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য দুই রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।

তিন উইকেটের এই জয় পাকিস্তানকে এনে দেয় নয় বল হাতে রেখে ফাইনাল জয়ের স্বাদ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অপেক্ষারও অবসান ঘটে দলটির। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে কিটপ্লাই কাপ জয়ের পর আর কোনো ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিততে পারেনি পাকিস্তান। এবার শুরুতে ধাক্কা সামলে এবং শেষ দিকে দারুণ ব্যাটিং করে সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছে তারা।

 

মন্তব্য করুন