বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষায় প্রযুক্তির সঙ্গে আইন বদলানোর তাগিদ কৃতি শ্যাননের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ব্যক্তিগত ছবি তৈরি ও অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষায় আইনও যুগোপযোগী করা জরুরি। অনলাইনে দেখা কোনো ছবি আসল, নাকি এআই দিয়ে তৈরি—তা শনাক্ত করাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ ‘দ্য মেকিং অব আ মডার্ন স্টার’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন কৃতি। তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি অনেক সময় আসল ছবির মতোই দেখায়। ফলে এ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব মোকাবিলায় মানুষ এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।

এ প্রসঙ্গে কৃতি বলেন, ‘আসল ছবি দেখতে যেমন, এআই দিয়ে তৈরি ছবিও ঠিক একই রকম। দুটির মধ্যে পার্থক্য সামান্যই। সে কারণে এআই ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তার জন্য আমরা প্রস্তুত নই। এ ক্ষেত্রে কিছু আইন থাকা দরকার।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এআই দিয়ে তৈরি নিজের ছবি শনাক্ত করে সরানোর সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, 'সত্যি বলতে— ইনস্টাগ্রামে আমি যদি কোনো কিছু রিপোর্ট করতে চাই, সেখানে এমন কোনো বিকল্প নেই, যেখানে বলা যাবে— ‘এটি এআই দিয়ে তৈরি আমার ছবি। তাই এটি রিপোর্ট করে সরিয়ে দেওয়া উচিত। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এখনো তত দ্রুত এগোতে পারছি না।'

প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি আইনেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে কৃতি বলেন, 'সে জন্য এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনও যুগোপযোগী করতে হবে। আমি প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের পক্ষে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সঙ্গে আইনকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।'

এআইয়ের সম্ভাবনা ও ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর এর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, 'এআই দিয়ে আসলে কী কী করা সম্ভব, তার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা জানি না। ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভীতিকর। অনলাইনে যা দেখা যায়, তা সত্যিই ভয় পাওয়ার মতো।’

এআই নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়ে কৃতি আরও বলেন, ‘এআই আমাকে ভয় দেখায়। আমার মনে হয়, অনেকেই এতে ভয় পান। তবে আমি মনে করি, এটি একটি হাতিয়ার, গন্তব্য নয়।’ তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

২০১৪ সালে তেলুগু চলচ্চিত্র ‘১: নেনোক্কাদিন’ দিয়ে বড়পর্দায় যাত্রা শুরু করেন কৃতি শ্যানন। একই বছর ‘হিরোপন্তি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত অভিনেত্রীদের একজন হয়ে ওঠেন তিনি।

 

মন্তব্য করুন