তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৭:১৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ধানমন্ডিতে মারধরের ঘটনায় যুবক খালিদ হাসান আটক, এএসআই প্রত্যাহার

ঢাকার ধানমন্ডিতে ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব আজ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, গত সোমবার দুপুরে সাতমসজিদ রোডে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের উল্টো দিকে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে খালিদকে আটক করা হয়েছে। আজই তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত। পুলিশ বলছে, আটক খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিকস ডিজাইনার।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার দুপুরে। সেদিন এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এর জেরে খালিদকে তাঁকে চড়থাপ্পড়, লাথি মারতে ও কান ধরে ওঠবস করাতে দেখা যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় আসে মারধরের বিষয়টি।

ভুক্তভোগী তরুণী আজ প্রথম আলোকে বলেন, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ করেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আটক করতে অনীহা দেখান। তখন তিনি এক স্বজনকে মুঠোফোনে ডেকে আনেন এবং ওই স্বজন এসে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন। তরুণীর প্রশ্ন, তাঁকে রক্ষা করতে এসে স্বজন এখন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, অথচ শ্লীলতাহানির সময় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তরুণী জানান, স্বজনের আটকের খবর শুনে তিনি আজ সকালে ধানমন্ডি থানায় যান। সেখানে পুলিশ তাঁকে বলে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়লে এমন পরিস্থিতি হতো না। যে অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বজনের মুক্তি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলের পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম বলেন, এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ ঘটনাস্থলে তাঁর দায়িত্ব ছিল। বাকি দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগের) বলে জানান তিনি। তাঁদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাগ ও ক্ষোভে গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। আশপাশে ভিড় করা পথচারীদের কেউ ঘটনাটি দেখছেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও করছেন। ভিডিওতে পথচারীদের কথোপকথনের খণ্ডিত অংশ শোনা যায়। তাঁদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে’, ‘মা-বোন নাই’।

একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্যকে দেখিয়ে তাঁকে তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তাঁর মুঠোফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধর করা যুবক তাঁকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘…তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে তিনি ওই ব্যক্তিকে আবারও থাপ্পড় মারেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনার সময় কয়েক হাত দূরেই পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পথচারীদের মতো তাঁরাও ঘটনাটি দেখছিলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মন্তব্য করুন