তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবার, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলার

ডলারের মান কিছুটা কমে আসা এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পেতে চলতি সপ্তাহে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ বাজারদরও ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৩০ ডলারে উঠেছে। খবর রয়টার্সের।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি চুক্তি এবং ডলারের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তেলের দাম কমে আসায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যা বিনিয়োগের আয়ের দিক থেকে স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক।’

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানিবিষয়ক যুদ্ধবিরতির আকস্মিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রাশিয়া থেকে আরও তেল সরবরাহের প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে। কারণ, এ মূল্যবান ধাতু থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না।

বাজারসংশ্লিষ্টরা এখন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচকের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্য সূচক ও খুচরা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য। এসব পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতির বিষয়ে ধারণা পাওয়ার আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ বলে মনে করছেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হয়েছে। এর প্রভাবে অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক আরও কমেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৪.৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬১.৮১ ডলারে পৌঁছেছে।

মন্তব্য করুন