প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১১:০৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের সামরিক সংঘাতে ইরান ‘মাঠে জয়ী’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও অন্যতম প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন যে, ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তেহরান নিজস্ব শর্তের ভিত্তিতেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
গালিবাফ তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, ইরান এখনো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা এই যুদ্ধে তেহরানের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। তিনি বলেন, “আমরা মাঠে বিজয়ী হয়েছি এবং এই মুহূর্তে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি কেবল এই কারণেই সম্ভব হয়েছে যে শত্রুপক্ষ আমাদের মৌলিক দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।” তাঁর মতে, শত্রুরা শুরুতে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দৃঢ়তার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
আলোচনাকে সংগ্রামেরই একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করে স্পিকার বলেন, ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আলোচনার টেবিলে যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা ইরানের শক্তিশালী অবস্থানের ফসল। তবে তিনি সতর্ক করে এও বলেন যে, চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে তাঁরা এখনো অনেক দূরে রয়েছেন এবং অনেকগুলো মৌলিক ও কৌশলগত বিষয়ে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মাসব্যাপী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান। আগামী বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গালিবাফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের এই ‘বিজয়’ দাবি মূলত আগামী সোমবার ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আগে ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন