প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে হাম প্রতিরোধে গৃহীত দ্রুততম টিকাদান কার্যক্রমের সুফল মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে। কোনো কোনো এলাকায় বর্তমানে রোগী ভর্তির সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, ‘৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া সারাদেশেই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস টিকাদানের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ভ্যাকসিন কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই প্রবণতা ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অবশ্য পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে আরও ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে, কারণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্রও এই ইতিবাচক ধারার সাক্ষ্য দিচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত এপ্রিলে মহামারী রূপ নেওয়া হাম পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। জানুয়ারিতে দুইজন ও ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন ভর্তি হলেও মার্চ-এপ্রিলে প্রতিদিন শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে প্রতিদিন মাত্র আট থেকে দশজন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, হামের প্রকোপ অনেকটা কমে এসেছে। একই চিত্র পাবনায়, যেখানে মার্চে প্রতিদিন ১৯-২১ জনের বদলে এখন ৮-১০ জন ভর্তি হচ্ছেন। নাটোরের সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান, যার ফলে সেখানে বর্তমানে কোনো মৃত্যু বা জটিলতার খবর নেই। এই সার্বিক চিত্র দ্রুততম টিকাদানের মাধ্যমেই দেশ হামের প্রকোপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে বলেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
মন্তব্য করুন