প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই আলী খামেনি নিহত হন। যদিও ইরান কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মোজতবা খামেনিই সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
হামলার সময় আলী খামেনি ছাড়াও তার স্ত্রী, মোজতবার স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। মোজতবা হামলাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বেঁচে রয়েছেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি। তবু দীর্ঘদিন ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
মোজতবা খামেনি আইআরজিসি’র সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কয়েক বছর ধরেই তিনি বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তাঁর বয়স ৫৬ বছর এবং তিনি কখনো প্রকাশ্যে উত্তরাধিকার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
মোজতবার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগও রয়েছে। ২০০৯ সালে গ্রিন মুভমেন্ট চলাকালীন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন, এবং বাসিজ ও আইআরজিসির মাধ্যমে বিভিন্ন বিক্ষোভ দমন করার সঙ্গে তার নাম জড়ানো হয়েছে। এছাড়া, পশ্চিমা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, তিনি বিদেশে অর্থনৈতিক সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
মোজতবার ধর্মীয় যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক আছে। তিনি ‘হুজ্জাত-উল ইসলাম’ বা মধ্যপর্যায়ের ধর্মীয় নেতা। আয়াতুল্লাহ বা উচ্চপর্যায়ের নেতা নন। তবে তার বাবার মতো, আইরান কৌশলে তাকে সর্বোচ্চ নেতা করার ব্যবস্থা করতে পারে।
বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ বা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। হামলার কারণে দেশে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রবাহ সীমিত থাকায় এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
ইরানের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এখন তিন সদস্যের কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে রয়েছেন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা আলিরেজা আরাফি, বিচারব্যবস্থার প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মন্তব্য করুন