তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা জোর দিয়ে বললেও ইসরায়েল-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গাজায় চলমান সংঘাত, লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক অভিযান এবং এর আগে ইরান-এর সঙ্গে সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ইতোমধ্যেই বড় চাপের মুখে রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ দেশটির জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

গত শনিবার ইরানে হামলার পর থেকে ইসরায়েলকে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। এর জেরে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি, স্কুল বন্ধ এবং হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করতে হয়েছে। তেল আবিব ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহর টানা হামলার মুখে পড়ায় জরুরি পরিষেবাগুলোও চাপে পড়েছে।

ইসরায়েলি অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে সামরিক উন্মাদনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এবারের সংঘাত ২০২৫ সালের জুনে হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের মতো নয়। তখন ইসরায়েলিদের মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার আতঙ্ক বেশি ছিল, তবে এখন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও যুদ্ধমুখী মনোভাবও দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থন ইসরায়েলি সমাজে চরমপন্থী রাজনীতির উত্থানের ইঙ্গিতও দেয়। আগে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক তরুণ ও দক্ষ মানুষ দেশ ছাড়ছেন।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর সময় ব্রিটেনের ওপর নাৎসি জার্মানির বিমান হামলার মতো। তখন ব্রিটিশরা মনে করত তারা চরম অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে। তার মতে, ইসরায়েলি সমাজেও ইরান সম্পর্কে একই ধরনের ধারণা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করা হয়েছে।

সামরিক দিক থেকেও দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ইসরায়েলের দিকে ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রতিবারই ইসরায়েলকে ইন্টারসেপ্টর রকেট ব্যবহার করতে হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল।

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় স্বল্পপাল্লার রকেট ঠেকাতে আয়রন ডোম, মাঝারি পাল্লার হামলা প্রতিরোধে ডেভিডস স্লিং এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে অ্যারো-২ ও অ্যারো-৩ ব্যবহৃত হয়। তবে দীর্ঘ সংঘাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও যুদ্ধের চাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযানে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ব্যয় প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির মুখে ফেলেছে।

এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদ শির হেভার বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ঋণ, জ্বালানি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা সংকটের মতো নানা চাপের মুখে রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, এসব অর্থনৈতিক চাপ একাই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র উন্নত অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখে।

মন্তব্য করুন