প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:১০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জোটটির সাবেক মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বর্তমান মেয়াদকালে ন্যাটোর টিকে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এক সাক্ষাৎকারের পর তার এ মন্তব্য প্রকাশিত হয়। স্টলটেনবার্গের মতে, ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্সি চলাকালে ন্যাটো অক্ষুণ্ণ থাকবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরিচালিত সামরিক অভিযানে ন্যাটোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম। কিন্তু এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ট্রাম্প এর আগে বহুবার ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর কম অবদানের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, সদস্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে নিজ নিজ জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
স্টলটেনবার্গ বলেন, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারে এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে যেতে পারে।
শনিবার (১৫ মার্চ) CBC-এর ‘দ্য হাউস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতগুলোতে ন্যাটো কখনোই বড় ভূমিকা পালন করেনি। এই সংঘাতে ন্যাটোকে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।”
স্টলটেনবার্গ আরও বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে।
বর্তমানে নরওয়ের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেন্স স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, মানবিক দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক প্রভাবের এই পরিস্থিতি তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি কমে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও সে ক্ষেত্রে তার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
মন্তব্য করুন