প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০৯:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে এক নির্বাচনি প্রচার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলার কথা ভাবছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘না।’
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তাঁর দাবি, ইরানি কর্মকর্তারাও ইতোমধ্যে বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তাঁর প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিষয়টি যেন তাঁরা বিবেচনায় রাখেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে দেশটি ‘আগের মতো আর কখনোই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগেই আমরা বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে সেটি থামিয়ে দিয়েছিলাম। বিমানগুলো প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল।’
এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে জ্বালানির দাম কমার বিষয়টিও যুক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার ধারণা, এ কারণেই তেলের দাম এত দ্রুত কমে যাচ্ছে।’
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত
আলাদা এক সাক্ষাৎকারে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা আবার শুরু করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না।
তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হোক, আমরা কিছু একটা করব। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি। তাদের কাছে অর্থ নেই, পেট্রল নেই এবং দেশটির জনগণও এসব নিয়ে ক্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।’
ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ‘ভালোভাবেই চলছে’ বলে জানান ট্রাম্প। তবে তাঁর অভিযোগ, ইরানি আলোচকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে ততটা তাড়া নেই, যতটা থাকার কথা বলে আপনারা মনে করেন। তবে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন একটি চুক্তি করতে বেশি আগ্রহী।’
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের আগে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার টেলিফোনে আলাপকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে সামরিক হামলা চালাতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেছিলেন।
তবে নেতানিয়াহুর উদ্বেগ ও অনুরোধের পরও ট্রাম্প সামরিক হামলার পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র: আনাদোলু ও অ্যাক্সিওস।=
মন্তব্য করুন