প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ১১:০১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার প্রক্রিয়াকে সবসময় স্বাগত জানিয়ে আসছে, তবে তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণে বর্তমানে আলোচনার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি প্রদানই প্রকৃত আলোচনার প্রধান বাধা।’ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করলেও ওয়াশিংটনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বক্তব্যের শেষে কঠোর ভাষায় যোগ করেন, ‘বিশ্ব তোমাদের অন্তহীন কপট কথাবার্তা এবং দাবি ও কাজের মধ্যকার বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছে।’
একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সুর চড়িয়েছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির সংজ্ঞা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করলে এবং জায়নবাদীদের (ইসরায়েল) সব ফ্রন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বন্ধ হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হয়।’ গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ‘যুদ্ধবিরতির এমন চরম লঙ্ঘনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।’ অর্থাৎ, নৌ-অবরোধ বহাল রেখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার কোনো সম্ভাবনা ইরান আপাতত দেখছে না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক ভয়াবহ সামরিক রূপ নেয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। বর্তমান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও পাল্টা অবরোধের এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও জটিল দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন