বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ১২:০৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নাটকের নির্মাণ ও কাস্টিং নিয়ে মুখ খুললেন পারসা

বাংলাদেশের নাটকের নির্মাণ ও শিল্পী নির্বাচনে আরও পেশাদারত্ব এবং সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিনেত্রী পারসা ইভানা। নাটকের ভালো-মন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং কাস্টিংয়ের শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়েছেন তিনি।

কোন পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি করেছিলেন, জানতে চাইলে গতকাল সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে পারসা জানান, সম্প্রতি পাশের দেশের একটি পডকাস্টে নাটক নিয়ে আলোচনা দেখছিলেন তিনি। সেখানে জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী ও লেখকেরা নাটকের ভালো-মন্দ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। বাংলাদেশের নাটক নিয়েও এমন আলোচনা হওয়া দরকার বলে মনে হয়েছে তাঁর।

পারসা বলেন, ‘আমাদের দেশে যদি এ রকম কোনো পডকাস্টে কোনো নাটক নিয়ে বসা হয়, তাহলে অসংখ্য ভুল পাওয়া যাবে। অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে, যেগুলো সাধারণত আমাদের দেশে কেউ বলেন না। ওই জায়গা থেকেই আমি পোস্টটি করেছি।’

তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানান অভিনেত্রী। বরং নাটকের নির্মাণ ও শিল্পী নির্বাচনে পেশাদারত্ব বাড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি পোস্টটি করেছিলেন। পারসার ভাষায়, ‘মেকিং ও কাস্টিংয়ের দিক থেকে আমাদের আরেকটু সচেতন থাকা উচিত।’

শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে পারসার। তাঁর ভাষ্য, কখনো কোনো চরিত্র নির্দিষ্ট শিল্পীকে ভেবেই লেখা হয়। কিন্তু শুটিং শুরুর আগে প্রযোজক বা অন্য কারও আপত্তিতে সেই শিল্পীকে বাদ দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে পারসা বলেন, ‘আমার সঙ্গেও এ রকম হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাকেই লাগবে, চরিত্রটা আমার জন্যই লেখা। শেষ মুহূর্তে হয়তো প্রযোজক বা অন্য কেউ আমাকে নিতে চান না। কিংবা অন্য কোনো কারণে কাস্টিং পরিবর্তন হয়ে যায়। যেটা খুবই বিরক্তিকর।’

এ ধরনের চর্চা বন্ধ হলে বাংলাদেশের নাটক আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। পারসার মতে, গল্পের দিক থেকে দেশের নাটক বেশ শক্তিশালী। সেই গল্পের যথাযথ উপস্থাপনার জন্য নির্মাতা ও প্রযোজকদের ব্যক্তিগত পছন্দের বদলে কাজের মানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

নিজের পোস্ট নিয়ে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আঘাত পেলে সেটি তাঁর সমস্যা বলেও মন্তব্য করেন পারসা। তিনি বলেন, ‘আমি তো আসলে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। কারও নামও নিইনি। তারপরও যদি কেউ পারসোনালি নিয়ে নেন, তার মানে তাঁদের সমস্যা আছে। আমার কাজ, আমার পরিশ্রম কোনো না কোনোভাবে আমার কাছে ফেরত আসবেই, যদি আমি এটা ডিজার্ভ করি। কে আমাকে নিয়ে কী মনে করলেন, এই পোস্টের কারণে কে আমাকে কাজে নিলেন বা নিলেন না, সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না।’

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ বদলে দিয়েছে ক্যারিয়ার

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের একটি মৌসুমে ইভা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পান পারসা ইভানা। ধারাবাহিকটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্তকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মনে করেন তিনি।

পারসা বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট করার পর লাইফ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন কোনো ইভেন্টে গেলে হাজার হাজার মানুষ আমাকে দেখতে আসেন। যে জিনিসটা আগে আমি পাইনি, এই লেভেলে পাইনি—ওই জায়গা থেকে অবশ্যই আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর্টিস্ট হিসেবে একটা অন্য রকম স্বীকৃতি আমি পেয়েছি।’

ধারাবাহিকটির মাত্র একটি মৌসুমে অভিনয় করেছেন পারসা। এরপর তাঁকে আর দেখা না গেলেও দর্শকের আগ্রহ এখনো রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দর্শকেরা তাঁকে আবার ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ দেখার ইচ্ছার কথা জানান। বিষয়টিকে অভিনয়জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করেন তিনি।

সিনেমা করতে চান, তবে বেছে বেছে

বড় পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন রয়েছে পারসারও। তবে শুধু সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো কাজ করতে চান না তিনি। এমন চরিত্র ও গল্পে কাজ করতে চান, যেখানে নিজের অভিনয়ক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

পারসা বলেন, ‘সিনেমা করার ইচ্ছা কার না থাকে? নিজেকে বড় পর্দায় দেখা, সবাই মিলে প্রিমিয়ার—প্রত্যেক আর্টিস্টেরই একটা ড্রিম থাকে। হাজার হাজার মানুষ হলে গিয়ে টিকিট কেটে আমাকে দেখবেন, এটা প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন।’

এ পর্যন্ত সিনেমার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেলেও কোনোটিই তাঁর পছন্দ হয়নি। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ওই স্ক্রিপ্টগুলো থেকে আমার পাওয়ার কিছু নেই। যেদিন আমার কাছে মনে হবে যে এই ক্যারেক্টারে আমি অনেক কিছু দিতে পারব, সেদিনই অভিনয় করতে চাই। ওরকম স্ক্রিপ্ট, ওরকম ডিরেক্টর, ওরকম রাইটারের সিনেমাতেই আমি অভিনয় করতে চাই।’

সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহশিল্পী বা বড় তারকার উপস্থিতির চেয়ে গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালকের ভাবনা এবং চরিত্রের গভীরতাকে গুরুত্ব দেন পারসা। পর্দায় তাঁকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখেন তিনি।

এর মধ্যে ‘মিস্টার বাদল’ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। গত সাত-আট মাসে পাঁচটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন তিনি।

 

মন্তব্য করুন