তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১২:২৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মুঘল আমলের স্থাপত্যে গম্বুজবিশিষ্ট কেরামত আলী মসজিদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মো. কেরামত আলী জামে মসজিদ উপজেলার কেরামত নগরে অবস্থিত একটি মসজিদ। ষাটের দশকে মুঘল আমলের স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত তিন গম্ভুজবিশিষ্ট আকর্ষণীয় ‘মো. কেরামত আলী জামে মসজিদ’টির প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী।

১৯৬৭ সালে মো. কেরামত আলী জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী। পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়।

মসজিদটির মধ্যখানে একটি বড় গম্ভুজ ও দু’পাশে অপেক্ষাকৃত দুটি ছোট গম্ভুজ এবং চারপাশের চার কোণায় চারটি লম্বাকৃতির সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মূল্যবান ইরানি পাথর দ্বারা নির্মিত মসজিদের গম্বুজের কারুকাজ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেলেও অত্যাধুনিক মোজাইক ও মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত মসজিদের ভেতর ও বাইরের বেশিরভাগ কারুকাজ-নকশা এখনও বর্তমান । এছাড়াও মসজিদ সংলগ্ন ইমাম-মুয়াজ্জিনদের থাকার জন্য মনোরম কোয়ার্টার, বড় পুকুর ঘাট ও অজুখানা বিদ্যমান রয়েছে।

মুঘল আমলে স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত এমন আকর্ষণীয় মনোমুগ্ধকর ও ব্যয়বহুল নির্মাণশৈলী মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি একক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট প্রকাশ করে। এই মসজিদে একসাথে সালাত আদায় করতে পারেন সহস্রাধিক মানুষ। 

এই মসজিদে জুম’আর দিন শতশত মানুষ সালাত আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। আবার অনেকে মসজিদটির সৌন্দর্য উপভোগ করতেও মাঝেমধ্যে এখানে হাজির হন। এমন ব্যতিক্রমধর্মী দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকীর্তি নিঃসন্দেহে দর্শনীয় স্থান হিসেবে উপভোগ্য।

আলহাজ্ব কেরামত আলী এম এল এ সম্বন্ধে আরো কিছু তথ্যঃ

জন্ম- কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ পরগনার বাদেসোনাপুর গ্রামে। ১৯৩০-১৯৩৫ সালে ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল। পরবর্তীতে পুলিশের চাকুরী ছেড়ে হয়েছেন ব্যবসায়ী। বাঁশ, কাঠ ও পাটের ব্যবসার পরে কেরামত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন, কোল্ডপ্সটোরেজ ও একাধিক চা বাগানের প্রতিষ্ঠাতা।

ভানুগাছের শফাত আলী মাদ্রাসা তাঁর বাবার নামেই প্রতিষ্ঠিত। তিঁনি ভানুগাছের এই মসজিদসহ কেরামতনগর ডাকঘর, স্থানীয় মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর দান রয়েছে। এমনকি মৌলভীবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন ৭৫ হাজার ও শ্রীমঙ্গল কলেজ প্রতিষ্টায় ২৫ হাজার টাকা দান করেছেন। সিলেটের পুরাতন মেডিকেল কলেজের দেয়ালে তাঁর টাকায়ই নির্মিত। ভানুগাছ রেল স্টেশন স্থাপনেও উনার অবদান অনস্বীকার্য।

১৯৪৬ সালের নির্বাচনে তিঁনি ও রাজনগরের এডভোকেট জসীম উদ্দিন মিলে 'কিষাণ লীগ' নামে একটা সংগঠন গড়ে তুলেন। সেই নির্বাচনে তিঁনি সেখান থেকেই নির্বাচন করেন মুসলীম লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে। পরবর্তীতে শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক'র কৃষক শ্রমিক পার্টি থেকে ১৯৫৪ এর নির্বাচনে তিঁনি জয়লাভ করে প্রাদেশিক পরিষদের (এমপিএ) সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে তাঁরই ছেলে কমলগঞ্জ-শ্রীমংগল থেকে মুহিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের (এমপিএ) সদস্য নির্বাচিত হোন। ১৯৬৫ সালের কেরামত আলী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।

কেরামত আলী আমাদের তৎকালীন মহকুমা লোকাল বোর্ডেরো (বর্তমানে যেটা পৌরসভা) সদস্য ও সহ-সভাপতি হিশেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ও পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের সাথে উনার বেশ অন্তরংগতা ছিলো। তাঁর প্রাসাদোপম বাড়ির ভিত্তি প্রস্তর উনাদেরই স্থাপন করা! 

তিঁনি ১৯০১ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৯৬৯ সনে লোকান্তরিত হোন।

 

মন্তব্য করুন