প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত তিন বছর সময় পার না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনিরা শারমিন নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। এনসিপির এই যুগ্ম আহ্বায়ক ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার পদে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাত্র দুই বছর পর গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। আইনের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন।
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাঁর আইনজীবী নাজমুস সাকিব জানান, ‘আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করব। প্রার্থিতা ফিরে পাব আশা করি। আমরা বুঝেশুনেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপিলের পর আসনটি শূন্য হলে তা সব দল ও জোটের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্র গৃহীত হলেও কোনো দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আলাদাভাবে জমা দেওয়া তিনজনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মনিরার আবেদনটি স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা আজ চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো। বর্তমানে বৈধ ১২ জন প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপি জোটের প্রার্থীরা পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
মন্তব্য করুন