প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১০:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালে পূর্ণ দল নিয়ে ফিরেছে বিশ্বখ্যাত দুই কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS) এবং ব্ল্যাকপিঙ্ক (BLACKPINK)। কিন্তু এই প্রত্যাবর্তন যতটা জাঁকজমকপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি জন্ম দিয়েছে বিতর্কের। ভক্তদের উন্মাদনা আর সমালোচকদের কড়া নজরদারিতে কে-পপ দুনিয়ায় এখন বইছে উত্তাল হাওয়া।
বছরের শুরুতেই ইঙ্গিত মিলেছিল যে তৃতীয় প্রজন্মের ব্যান্ডগুলো সহজে মাঠ ছাড়বে না। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে এক্সো (EXO) তাদের ৮ম অ্যালবাম REVERXE নিয়ে দাপুটে এন্ট্রি দেয়। নানা অভ্যন্তরীণ জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ব্যান্ডটি "শক্তিশালী অ্যালবাম বিক্রয় এবং সফল কনসার্টের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে।" এমনকি আই.ও.আই (I.O.I) এবং ওয়ানা ওয়ান (Wanna One)-এর মতো জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলোর ফেরার গুঞ্জন "তৃতীয় প্রজন্মের ফ্যানডমের দীর্ঘায়ু" হওয়ার বিষয়টিকেই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সামরিক বাহিনী থেকে ফেরার পর বিটিএস-এর অ্যালবাম ARIRANG নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। তবে অ্যালবামের চেয়ে নেতিবাচক খবরই বেশি আলোচনায় এসেছে। রিলিজের আগে থেকেই "সদস্যদের জড়িত ডেটিং গুজব প্রথম দিকে শোরগোল তৈরি করেছিল।" এমনকি ঐতিহাসিক গুয়াংঘয়ামুন চত্বরে তাদের পারফরম্যান্সে আশানুরূপ দর্শক না হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রলও কম হয়নি।
সংগীতের ক্ষেত্রে বিটিএস এবার বেছে নিয়েছে ধীরগতির এবং অন্তর্মুখী সুর। সমালোচকদের মতে:
হারানো তেজ: নতুন গানের নরম সুর বিটিএস-এর সেই চিরচেনা "স্বাক্ষর তীব্রতাকে (signature intensity) হ্রাস করেছে।"
কোরীয় ঐতিহ্যের অভাব: অ্যালবামের নাম 'আরিরাং' (কোরীয় লোকসংগীতের নামানুসারে) হলেও গানের ভেতরে তার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাননি অনেকে। সমালোচকদের ভাষায়, "অ্যালবামের বেশিরভাগ প্রোডাকশনে আন্তর্জাতিক কন্ট্রিবিউটররা জড়িত ছিলেন এবং ইংরেজি লিরিক্সের অত্যধিক ব্যবহার সেই সব শ্রোতাদের জন্য একটি বিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে যারা শক্তিশালী কোরিয়ান পরিচয় আশা করেছিলেন।"
জিনের অনুপস্থিতি: গানের ক্রেডিট লাইনে এবার "জিনের অনুপস্থিতিও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে," যা ফ্যানদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
অবশ্য এত কিছুর পরেও বিটিএস-এর জনপ্রিয়তায় ফাটল ধরানো কঠিন। তাদের গান "SWIM" টানা চার সপ্তাহ বিলবোর্ড তালিকার সেরা দশে ছিল এবং প্রথম সপ্তাহেই বিক্রি হয়েছে অবিশ্বাস্য ৪০ লক্ষ কপি।
এদিকে ব্ল্যাকপিঙ্ক ফিরেছে তাদের নতুন অ্যালবাম DEADLINE নিয়ে। তবে তাদের প্রচারণার পুরনো ঢং—অর্থাৎ রহস্য বজায় রাখা—এখনকার দ্রুতগতির ডিজিটাল যুগে ঠিক জমেনি।
ব্যান্ডটির নতুন গান "GO" ছিল ডার্ক টেকনো ও ডাবস্টেপের সংমিশ্রণ। যা নিয়ে ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে:
অপরিচিত সুর: ভক্তরা যে চিরচেনা 'ব্ল্যাকপিঙ্ক সাউন্ড' আশা করেছিলেন, তা এই গানে অনুপস্থিত ছিল।
ট্রেন্ডের বিপরীতে: বর্তমান সময়ের ছোট দৈর্ঘ্যের গানের বিপরীতে তাদের দীর্ঘ গানের কাঠামো "বর্তমান শর্ট-ফর্ম কন্টেন্ট ব্যবহারের ট্রেন্ডের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল।"
ফলস্বরূপ, চার্টে গানটি আগের মতো আধিপত্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে ব্ল্যাকপিঙ্ক প্রমাণ করেছে তাদের ফ্যানবেজ কতটা শক্তিশালী; প্রথম সপ্তাহের বিক্রিতে তারা ভেঙে দিয়েছে নারী ব্যান্ডগুলোর আগের সব রেকর্ড।
বিটিএস এবং ব্ল্যাকপিঙ্কের এই কামব্যাক আসলে সাফল্যের চেয়ে বেশি দীর্ঘ বিরতির পর তৈরি হওয়া আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, "বিটিএস বর্তমানে তাদের পরিচয় এবং বৈশ্বিক প্রভাব সামলাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, অন্যদিকে ব্ল্যাকপিঙ্ক মূলধারার শ্রোতাদের হারানোর ঝুঁকি নিয়েও তাদের শৈল্পিক সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করছে।"
দিনশেষে এই কামব্যাকগুলো কেবল জয় বা পরাজয় নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের টিকিয়ে রাখার এক নতুন লড়াই। কারণ, "বছরের পর বছর অনুপস্থিতি প্রত্যাশার পারদকে এমন এক অসাধারণ স্তরে নিয়ে গেছে, যেখানে যেকোনো রিলিজই পুরোপুরি সন্তোষজনক হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।"
মন্তব্য করুন