প্রকাশিত: ৩ অক্টোবার, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শনিবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এমন হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন রণতরীর সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনাও ওই অঞ্চলে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—মোতায়েন রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকেও সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে অবস্থানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হয়। থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নতুন নৌবহর যোগ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে ওই অঞ্চলে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নৌসেনা ও নাবিক এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে বলে জানা গেছে।
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত অবস্থায় রয়েছে এবং এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।
তবে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে। জবাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় যাত্রী ও অন্য ক্রুরা কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। তদন্ত এখনো চলছে এবং হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়নি।
ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যে তথ্য পাচ্ছেন, তার ভিত্তিতে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র আছে কি না তা এখনো তদন্তাধীন।
ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
মন্তব্য করুন