মঙ্গলবার   ২২ এপ্রিল ২০২৫   বৈশাখ ৮ ১৪৩২   ২৩ শাওয়াল ১৪৪৬

দেশের মানুষ জেগে উঠেছে: নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রোববার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি, ভবিষ্যতেও তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চায় না। তারা যদি আগামীতে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চাইতো, তাহলে জনগণকে কষ্ট দিতে পারতো না। তারা আবারও ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসতে চায়। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, তারা আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি প্রতিহত করবে।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের কাজীর দেউরীস্থ নুর আহম্মেদ সড়কে ১০ দফা দাবিতে বিএনপির বিভাগীয় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের মানুষ জেগে উঠেছে: নজরুল ইসলাম

তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন চলছে। সেটা আরও বেগবান করতে হবে। আন্দোলনের মধ্যদিয়েই সরকারের পতন হবে। আর সে পতনের অংশীদার আমরা হবো। আগামী শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশের সব ইউনিয়নে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা কর্মসূচি দিলেই সরকার বাধা দেয়। আমরা দেখতে চাই সারাদেশের কয়টা ইউনিয়নে তারা বাধা দিতে পারে। সব ইউনিয়নের সব নারী-পুরুষ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে যারা হালাল উপার্জন করেন, সেই শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ- তারা আজ চলতে পারছেন না। প্রতিদিন জিনিসের দাম বাড়ছে। এ সরকারের তাতে কোনো পরোয়া নেই। তিন সপ্তাহের মধ্যে দুইবার জ্বালানির দাম বেড়েছে। যদি এ সরকার জনগণকে পরোয়া করতো তাহলে এটা তারা করতে পারতো না।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করে আবার সেটা প্রয়োগের কথা বলছে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে এ সরকারের পতনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন আরও গতিশীল করতে হবে। আমরা একটা মহাযুদ্ধের মধ্যে আছি। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। এ যুদ্ধ গণতন্ত্রের লড়াইয়ের যুদ্ধ, মানুষের ভোটের যুদ্ধ। দেশের মানুষ আজ না খেয়ে আছে। দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই।

তিনি বলেন, সরকার দেশে যে কর্তৃত্ববাদী, নৈরাজ্যবাদী প্রশাসনসহ যাদের সৃষ্টি করেছে, এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য লড়াই করছি না। আমাদের লড়াই হচ্ছে জনগণের জন্য। জনগণের মাধ্যেমে রাষ্ট্রক্ষমতা আবার কেড়ে নিতে হবে। জনগণের মধ্যদিয়ে গণতন্তেরে রক্ষা হবে।

দেশের মানুষ জেগে উঠেছে: নজরুল ইসলাম

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মীর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন আওয়ামী লীগ মিছিল করলে বিএনপি নাকি পালানোর জায়গা পাবে না। আজ এসে তিনি দেখে যাক মানুষের এই জনসমুদ্র। আমরা যদি ঘোষণা দেই আজ থেকে বাংলাদেশ বন্ধ, তাহলে আপনাদের সে ক্ষমতা নেই আবার চালু করার। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আরেকটা গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। সে ডাক আসবে। তখন সব অচল হয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের এই বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করেছে চট্টগ্রাম বিএনপির ঘাঁটি। এই সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীসহ গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি করছি। তিনি সমাবেশ সুন্দরভাবে শেষ করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। এসময় হাসনা মওদুদসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।