লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবার, ২০২৬, ০১:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের মধ্যেই লাকসামে উচ্ছেদ অভিযান, ভাঙচুরের অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সালেপুর গ্রামে উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনা ভাঙার দৃশ্য। ছবিতে ভাঙা ভবন ও ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সালেপুর গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ থাকা অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমার বিরুদ্ধে। অভিযানে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ভুক্তভোগী শরীফ হোসেনের দাবি, সালেপুর গ্রামের সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে কুমিল্লার সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-১৯০/২০২৬ চলমান রয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসি ল্যান্ডকে শোকজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিষয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার পরও সালেপুর গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বড় এক্সকাভেটর দিয়ে ভবনের ছাদ, দেয়াল ও সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভাঙা ইট, কংক্রিট, টিন ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম দেখতে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিও দেখা যায়।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, অভিযানের ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ভবন, স্থাপনা ও মালামালসহ মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
জেলা জিপির বক্তব্য
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সকালে তিনি এসি ল্যান্ডকে মোবাইল ফোনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করার অনুরোধ করেছিলেন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলার কথা বলেছিলেন। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই অনুরোধ সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জেলা জিপি আরও বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে।
আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে প্রশ্ন
আইনজীবী ও ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ কার্যকর থাকার সময়ে একই সম্পত্তিতে উচ্ছেদ বা স্থাপনা অপসারণের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনার সুযোগ রয়েছে। তারা ঘটনার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানের আইনগত ভিত্তি এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রশাসনের বক্তব্য যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে আমি চলে আসি।

মন্তব্য করুন