তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলে না: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি দাবি করেন, দলটির জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত গণতন্ত্রের সঙ্গে তাদের অবস্থান অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘কালো দিবস’ পালন করে আসছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ করেছেন, যা কখনো ভোলার নয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আংশিকভাবে ফিরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সরকার এই স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেন।

তবে সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছু গণমাধ্যমের মালিক সাংবাদিকদের ওপর অন্যায় আচরণ করছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ তুলে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান এবং সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনও অনেক সাংবাদিক বেকার রয়েছেন। তিনি তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।

বিএনপিকে উদার ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটি বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় এবং ভিন্নমতকে সম্মান করে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তুলনামূলক কম ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলকে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসন ছিল ‘ফ্যাসিবাদী’। এ সময়কার ঘটনাবলি নিয়ে গবেষণা ও বই লেখার জন্য লেখক-সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, সংবাদপত্রের ‘কালো দিবস’ যেন ভবিষ্যতে আর ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ অন্যান্যরা।

মন্তব্য করুন